Uncategorized

কীভাবে ড্রাইভিংয়ে দক্ষতা বাড়াবেন পার্ট- ২

গাড়ি চালানোর জন্য দক্ষতা অর্জন করা বাধ্যতামূলক। আপনি যতবেশি ড্রাইভিং প্র‍্যাকটিস করবেন, তত বেশি আপনার দক্ষতা বাড়বে। দক্ষতা বাড়নোর জন্য অন্যতম প্রয়োজনীয় হলো, গাড়ি চালানোর নিয়মকানুন এবং ট্রাফিক আইন সম্পর্কে ভালোভাবে জানা। গত পর্বে আমরা বেশ কয়কটা পয়েন্ট নিয়ে আলোচনা করেছিলাম। আজকে আরো কয়েকটা বিষয় নিয়ে বিস্তারিত  আলোচনা করবো।

১- নিরাপদ দূরত্ব বজায় রাখুন

সবসময় অন্য গাড়ি থেকে কিছুটা দূরত্ব রেখে ড্রাইভিং করা  ভালো। আপনার এবং সামনের গাড়ির মধ্যে একটা নির্দিষ্ট দুরুত্ব রেখে ড্রাইভিং করবেন। সময়ের হিসেবে এটা দুই থেকে চার সেকেন্ড হওয়া উচিত। সামনের গাড়ি হঠাৎ করে ব্রেক করলে গাড়ি থামানোর জন্য আপনি যথেষ্ট সময় হাতে পাবেন। নিরাপদ দূরত্ব বজায় রেখে ড্রাইভিং করলে, অনাকাঙ্ক্ষিত দুর্ঘটনাগুলো এড়ানো যায়। আর অবশ্যই অবশ্যই বাস এবং ট্রাক থেকে দুরত্ব বজায় রাখবেন। কারণ, বাংলাদেশের অনেক বাস-ট্রাকেরই ব্রেক লাইট  জ্বলে না। যার কারণে, ব্রেক করলে বুঝায় উপায় থাকে না। তাছাড়া, হাইওয়েতে গাড়ি অনেক বেশি গতিতে চলে। হাইওয়েতে অবশ্যই যথেষ্ট দূরত্ব রাখতে হবে সামনের গাড়ি থেকে। বিশেষ করে ট্রাক এবং দূরপাল্লার বাসগুলো বেপরোয়া গতিতে চলাফেরা করে। আরেকটা সমস্যা হলো, দ্রুত ট্রাক থামানোটা একটু কঠিন। ট্রাকের  ব্রেক করতে একটু বেশি সময় প্রয়োজন হয়ে থাকে। তাই ট্রাক থেকে একটু দূরত্ব বজায় রাখা উচিত

২- ধৈর্য্য ঠিক রাখুন-

গাড়ি চালানোর সময়, আসতর্কভাবে রাস্তা পারাপার, সিগনাল ছাড়া গাড়ি ঘুরানো, এইরকম অনেক দৃশ্য আপনাকে দেখতে হবে।কারণ, আমাদের দেশের ড্রাইভার এবং মানুষ এখনো অসচেতন। এইসব পরিস্থিতিতে মেজাজ খারাপ করা যাবে না। কারণ, মেজাজ খারাপ করে গাড়ি চালানে দুর্ঘটনা ঘটার সম্ভাবনা থাকে!  প্রয়োজনে গাড়ির অন্যান্য যাত্রীদের সাথে গল্প করুন অথবা গাড়িতে গান শুনুন। এতে মন ভালো থাকবে। ড্রাইভিংএ মনোযোগ বাড়বে।

৩- সুন্দরভাবে গাড়ি চালান-

গাড়ি সুন্দর চালানোও কিন্তু দক্ষতার একটি অংশ। গাড়ি চালানোর কিছু নিয়ম আছে। অর্থাৎ আপনাকে এক্সিলারেটর প্যাডেল হালকা চেপে আস্তে-ধীরে গতি বাড়াতে হবে। একইভাবে ব্রেকের ক্ষেত্রেও একই। ব্রেক করার স্থানের কিছুটা আগে থেকেই এক্সিলেটর ছাড়তে হবে এবং ধীরে-ধীরে ব্রেক চেপে গতি কমাতে হবে। এভাবে গাড়ি চালালে গাড়ির মাইলেজ ও ভালো থাকে। গাড়ির ভেতরের যাত্রীদের ভ্রমণটাও ভালো লাগবে। অযথা অতিরিক্ত জোরে এক্সিলেটর চেপে গতি বাড়িতে এবং জোরে ব্রেক করলে যাত্রীদের অসুবিধা হয়। এভাবে গাড়ি চালাতে গাড়ির তেল খরচ হয় প্রচুর। ইঞ্জিনের উপর ও অনেক বেশি চাপ পড়ে। সবমিলিয় ধুপধাপ স্পীড এবং ধুপধাপ ব্রেক করে গাড়ি চালানো যাবে না।

৪- সাবধানে গাড়ি পার্ক করুন  

চারপাশের সবকিছু পর্যবেক্ষণ করে নিরাপদ জায়গায় গাড়ি পার্ক করতে হবে। সেক্ষেত্রে গাড়ি পার্ক করার সময় যাতে অন্যদের কোন অসুবিধা না হয়, সেইদিকে দৃষ্টি রাখতে হবে। আপনি গাড়ি পার্ক করার সময় যেন যানজট বাধিয়ে না ফেলেন কিংবা পথচারীদের কোন অসুবিধা সৃষ্টি না হয়, সেদিকেও লক্ষ্য রাখতে হবে। এছাড়াও গাড়ি পার্ক করার সময় সতর্ক থাকতে হবে, যাতে অন্য কোন গাড়িতে ধাক্কা না লাগে। মূলত, গাড়ি থামানোর সময় আশেপাশে এবং রোডের দিকে খেয়াল রাখতে হবে, যাতে কোন অনাকাঙ্ক্ষিত দুর্ঘটনা না ঘটে। এছাড়াও অবশ্যই নিরাপদ স্থানে গাড়ি পার্ক করতে হবে। কারণ, অনিরাপদ স্থানে গাড়ি রাখলে গাড়ির পার্টস চুরি হওয়ার সম্ভাবনা থাকে।

Back to list

Leave a Reply